2.9 C
New York
Thursday, May 13, 2021
Home কোভিড-১৯ ২০২০-২৫ বিশ্বে কভিডের টিকা বাবদ ব্যয় হবে ১৬ হাজার কোটি ডলার

২০২০-২৫ বিশ্বে কভিডের টিকা বাবদ ব্যয় হবে ১৬ হাজার কোটি ডলার

কভিড-১৯ মহামারীতে গত বছর থেকে ভয়ংকর এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয় বিশ্ব। চলাচল থেকে ব্যবসা-বাণিজ্য, স্থবির হয়ে যায় সবকিছু। চাকরি হারিয়ে অনেক মানুষ ভয়াবহ আর্থিক সংকটে পড়ে। এমনই এক অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিস্থিতিতে আলোর দিশা হিসেবে হাজির হয় কভিড-১৯ প্রতিরোধী টিকা। চলতি বছরের শুরু থেকে বিশ্বজুড়ে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবিত এ টিকা প্রয়োগ করা হচ্ছে। যদিও এক্ষেত্রে ধনী দেশগুলো তাদের নাগরিকদের দ্রুত টিকা দিতে পারলেও পিছিয়ে রয়েছে অনুন্নত দেশগুলো। আর এ টিকার পেছনে বিশ্বজুড়ে ব্যয় ২০২৫ সালের মধ্যে ১৫ হাজার ৭০০ কোটি ডলারে পৌঁছে যাবে বলে জানিয়েছে মার্কিন এক স্বাস্থ্য তথ্য সংস্থা। খবর রয়টার্স।

সম্প্রতি প্রকাশিত মার্কিন বহুজাতিক স্বাস্থ্য তথ্য সংস্থা আইকিউভিআইএ হোল্ডিংস ইনকের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে কভিড-১৯ টিকাদান কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রতি দুই বছরে একটি করে বুস্টার ডোজের প্রয়োজন হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এজন্য সব মিলিয়ে ২০২৫ সালের মধ্যে কভিড-১৯ টিকার পেছনে বিশ্বজুড়ে ব্যয় ১৫ হাজার ৭০০ কোটি ডলারে পৌঁছে যাবে।

স্বাস্থ্যসেবা শিল্পের জন্য ডাটা ও বিশ্লেষণ সরবরাহ করা আইকিউভিআইএ ২০২২ সালের মধ্যে বিশ্বের জনসংখ্যার ৭০ শতাংশ টিকাদান কার্যক্রমের আওতায় আসবে বলে আশাবাদী। কভিড-১৯ টিকাগুলোর কার্যকারিতার সময়কাল সম্পর্কে বর্তমান তথ্যের ভিত্তিতে সংস্থাটি বলছে, প্রাথমিক টিকাদানের পর প্রতি দুই বছরে একটি বুস্টার ডোজ প্রয়োগ করতে হবে।

গত মাসের শুরুতে হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা বলেছিলেন, কভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে প্রথম পর্যায়ের টিকাদান কার্যক্রমের পর ৯ থেকে ১২ মাসের মধ্যে বুস্টার ডোজ লাগবে বলে ধরে নিয়ে সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। করোনার টিকা উদ্ভাবনকারী ফাইজার ইনকও জানিয়েছে, ১২ মাসের মধ্যে বুস্টার ডোজের প্রয়োজন হতে পারে।

বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে টিকাদান কার্যক্রম চলায় এ বছর টিকার পেছনে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হবে। ২০২১ সালে এ ব্যয় ৫ হাজার ৪০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। আইকিউভিআইএর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মারি আইটকেন বলেন, তবে পরের বছরগুলোয় এ ব্যয় কমতে থাকবে। এটা ২০২৫ সালে গিয়ে ১ হাজার ১০০ কোটি ডলারে দাঁড়াবে।

তিনি একটি সাক্ষাত্কারে বলেন, নতুন শ্রেণীর ওষুধ কিংবা টিকা বিক্রিতে এ ধরনের পূর্বাভাস দেয়ার ক্ষেত্রে তুলনা করার মতো কিছু নেই। তবে এটা তীব্র চাহিদার কারণে ২০১৪ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে নতুন হেপাটাইটিস সি নিরাময়ের জন্য ১৩ হাজার কোটি ডলার ব্যয়ের বিষয়টি স্মরণ কয়ে দিচ্ছে।

আইকিউভিআইএ জানিয়েছে, কভিড-১৯ টিকার পেছনে এ ব্যয় একই সময়ে সব প্রেসক্রিপশনকৃত ওষুধের জন্য প্রায় ৭ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় পূর্বাভাসের ২ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে। মহামারীর কারণে কভিড-১৯ টিকার ব্যয় বাদ দিয়ে সামগ্রিক ওষুধের পেছনের ব্যয়ও হ্রাস পেয়েছে। ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ছয় বছরে ওষুধের পেছনে ব্যয়ের পূর্বাভাস ৬ হাজার ৮০০ কোটি ডলার কমানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহামারীটি চিকিৎসককে দেখানো, চিকিৎসা কার্যক্রম ও ওষুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বড় বাধার সৃষ্টি করেছিল। মহামারীর শুরুতে কিছু ওষুধের ক্ষেত্রে মজুদ করার প্রবণতাও তৈরি হয়েছিল। যদিও পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

আইটকেন বলেন, আগামী পাঁচ বছরে কভিড-১৯ টিকার পেছনে ১৫ হাজার ৭০০ কোটি ডলার ব্যয় হবে। মহামারীতে মানবিক ক্ষতির তুলনায় এটি খুব সামান্যই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments